আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক গণভোটের অংশ হতে ‘আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ’ সকল যুবক একতাবদ্ধ!


                     গণভোট ২০২৬: 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সেই রক্তস্নাত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, তা ছিল একটি রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন। সেই বিপ্লবের শহীদদের রক্তে ভেজা ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এখন আমাদের সামনে এক নতুন ভোরের হাতছানি দিচ্ছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আপনার একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট বদলে দিতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ ইতিহাস।

গণভোট কী এবং কেন?

গণভোট হলো এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেখানে কোনো প্রার্থী থাকে না, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে জনগণ সরাসরি রায় দেয়। ২০২৬ সালের এই গণভোট হচ্ছে মূলত জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে সাংবিধানিক রূপ দিতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে।

আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান?

আমরা ‘আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ’-এর পক্ষ থেকে এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হবে অটুট। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আপনি যে গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো নিশ্চিত করবেন

১. ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ: কোনো ব্যক্তি আর আজীবন ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচারী হতে পারবেন না। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।

২. নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। ফলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

৩. সংসদীয় গণতন্ত্রের আধুনিকায়ন: পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন, যা সংসদে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

৪. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না—এমন সাংবিধানিক গ্যারান্টি দেওয়া হবে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

৫. অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র: রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষারও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এছাড়া সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।
কেন আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব?

আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ’ বিশ্বাস করে যে, পরিবর্তনের চাবি এখন তরুণ প্রজন্মের হাতে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে রাষ্ট্র চালানোর পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে একমত হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে হলো বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করা এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো।

ভোট প্রদানের নিয়ম:

গণভোটের ব্যালট পেপারে আপনি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এই দুটি বক্স পাবেন। আপনি যদি উপরে বর্ণিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পেতে চান, তবে ‘হ্যাঁ’ বক্সের নির্ধারিত স্থানে টিক () চিহ্ন দিন। মনে রাখবেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে আপনি পাবেন একটি সংস্কারকৃত আধুনিক রাষ্ট্র, আর ‘না’ ভোট দিলে আমরা আবার সেই পুরনো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব।

আবাবিলের চোখে:-
আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হলো এলাকার অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও যেন এই মানবিকতা ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দল-মত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মেরে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সারথি হোন।
মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে। আপনার একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটই হোক নতুন বাংলাদেশের মুক্তির সনদ।


আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ
একটি অরাজনৈতিক সেচ্ছসেবী যুব সংগঠন
লক্ষীপুর,দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ।

 


এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রক্ত দিন, জীবন বাঁচান — আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ এর মানবতার আহ্বান

কারা রক্ত দিতে পারবেন, আর কারা পারবেননা? জেনে নিন আবাবিল ইসলামি যুব সংঘের পক্ষ থেকে

মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন আবাবিল ইসলামি যুব সংঘ